রহস্যে ঘেরা উত্তর কোরিয়া প্রধান কিম জং উন

রহস্যে ঘেরা উত্তর কোরিয়া প্রধান কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ফার্স্ট সেক্রেটারি, উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ান পিপলস আর্মির সুপ্রিম কমান্ডারও তিনি।
গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার প্রথম হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর নেপথ্যের ব্যক্তিও এই কোরীয় নেতা। ওই পরীক্ষা চালানোর নির্দেশপত্রে সই ছিল তাঁর।
হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কিম বিশ্বকে এটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হুমকি, চাপ, ভাবনা নিয়ে তাঁর তেমন মাথাব্যথা নেই। তাই বিশ্বনেতাদের বুড়ো আঙুল দেখাতে কার্পণ্য করেননি তিনি।
২০১১ সালের জানুয়ারির শুরুতেই অনেক উত্তর কোরিয়াবাসী জানতে পারেন, সে বছরের ৮ জানুয়ারি এক বিশেষ দিনের মর্যাদা পেতে চলেছে। এক তরুণ নেতাকে চার তারকা জেনারেল ও দেশটির শীর্ষ নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বরণ করে নিতে দিনটিতে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। সেই তরুণই আজকের বৈচিত্র্য আর রহস্যে ঘেরা নেতা কিম জং-উন।
উনের জন্মদিনটি কোরিয়ানদের কাছে আজও অজানা। দিনক্ষণ না জানা থাকলেও বছরটি ১৯৮৪ বলে একটা গুঞ্জন রয়েছে। তাঁকে নিয়ে এমন অজানা অনেক বিষয়ই রয়েছে দেশটির অধিবাসীদের কাছে।
গণমাধ্যমে প্রথম খোলাখুলিভাবে কিম জং-উনের নামটি এসেছিল ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে। মাত্র ১৪ মাস পরই পুরো দেশের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। ইতিমধ্যে ২০১১-এর ডিসেম্বরে আকস্মিকভাবে মারা যান তাঁর বাবা কিম জং-ইল।
অল্প বয়সে দেশের শাসনভার তুলে নেওয়ার পর অনভিজ্ঞ উনের ব্যাপারে অধিকাংশ পর্যবেক্ষকেরই ধারণা ছিল, অন্তত পরের কটি বছর বাবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ঝানু সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দায়িত্ব-কর্তব্য রপ্ত করবেন তিনি। কিন্তু রাতারাতিই বুঝিয়ে দিলেন, ভাবনা ঠিক নয়।
দেশের তিন শীর্ষ উপদেষ্টার যে হাল উন করেছিলেন, তাতেই পর্যবেক্ষকেরা বুঝে গিয়েছিলেন সামনে কী কাণ্ড ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি। উপদেষ্টাদের একজনকে সরকারি বৈঠকে ক্যামেরার সামনেই গ্রেপ্তার করান তিনি। পরের সপ্তাহেই মৃত্যুদণ্ড। আরেকজনকে রোববারের সাপ্তাহিক বৈঠকে আসতে বলেন তিনি। পরে এই উপদেষ্টার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তৃতীয়জনকে গৃহবন্দী করা হয় বলে খবর শোনা যায়। তৃতীয় এই নারী উপদেষ্টা ছিলেন উনেরই এক স্বজন।
চুলের বিচিত্র ছাঁট, পোশাকে ভিন্নতা ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান—এ সবকিছুতে উন বিশ্ব গণমাধ্যমে হয়ে উঠেছেন এক ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রের নেতা হিসেবে। এতে তাঁর অনেক অর্জনই বিশ্ববাসীর কাছে রয়েছে আড়াল হয়েই। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a comment

Send a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *