কোভিড-১৯- তাহারাত মুন আবির

কোভিড-১৯- তাহারাত মুন আবির

আরো একটা নির্ঘুম রাত কেটে গেল আমার জীবন থেকে । শরীরটা বড্ড খারাপ। প্রচণ্ড জ্বর,বুকে ব্যাথা,গলা ব্যাথা,মাথা ব্যাথা আরো নানান রকমের কারবার। শরীরের অসুস্থতা ও মনের কষ্টের তীব্র যন্ত্রণায় আমি পার করলাম আরো একটি নির্ঘুম রাত। ফেসবুক চালাচ্ছিলাম আর আম্মুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেছিলাম কারন আম্মুর প্রচন্ড মাথা ব্যাথা। কয়েকবার চেষ্টা করলাম ঘুমানোর জন্য কিন্তু ঘুম বাবাজি আসলো না আজকে আমার জিবনে। আম্মুর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে হঠাৎ কানের মধ্যে পবিত্র আযানের ধ্বনি ভেসে আসলো। আমি তখন আম্মুর কাছ থেকে উঠে এসে নিজেকে ফ্রেশ করে ওযু করে বসে গেলাম নামাজ পড়তে। নামাজ পড়া শেষে দোয়া করলাম সবার জন্য কিন্তু আল্লাহর কাছে নিজের জন্য কিছুই চাইলাম না। সময় এখন কোভিড-১৯ এর দখলে । নামাজ শেষ করে বেলকনিতে দাড়িয়ে আমি দেখতে লাগলাম রাত থেকে ভোর হওয়ার দৃশ্য।আমি ভোর হওয়ার দৃশ্য দেখে খুব মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রকৃতি খুঁজছে তার শুভ্রতা ।কিন্তু এই শহরে কি শুভ্রতা আছে ? আগে যদিও ছিলো না কিন্তু এই কোভিড-১৯ এর কারনে এই শহরে শুভ্রতার কিছুটা ছায়া নেমে এসেছে।কি সুন্দর পিন পতন নিরবতা চারিপাশে । এই পিনপতন নীরবতার মাঝে আমি শুনতে চাচ্ছিলাম পাখিদের কিচির মিচির গান । কিন্তু এই সময়ে পাখিরাও নিরব । তারা ডাকতে ভুলে গেছে । কি একটা আজব সময় পার করছে গোটা পৃথিবী। গোটা পৃথিবী নিরব। বন্দী কারাগারে এই সুন্দর শুভ্র পৃথিবী। ভোর বেলা ভাবতেছিলাম পৃথিবীর আগের করুন অবস্থার কথা। কতটাই না দূষণ বেড়ে গিয়েছিল?বেড়ে গিয়েছিল তাপমাত্রা , কমেছিল সবুজ গাছ , বেড়েছিল কার্বন – ডাই- অক্সাইড এর পরিমাণ ,কমেছিল অক্সিজেন । কিন্তু একটা অদৃশ্য ভাইরাস আমাদেরকে শত শত বছর আগের পৃথিবীকে আমাদের সামনে নিয়ে আসছে কিন্তু এর জন্য প্রাণ দিয়েছে লাখ মানুষ এবং দিয়ে চলছে আর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ১৪/১৫ লাখ মানুষ। কোভিড-১৯ কেড়ে নিচ্ছে আমাদের প্রাণ আর বিনিময়ে উপহার দিচ্ছে অনেক শত বছর আগের পৃথিবী। এই ভাইরাস না চিনে কোনো নেতা মন্ত্রী , না চেনে হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ , খ্রিস্টান । এই ভাইরাস চেনে শুধুই মানুষ । এই ভাইরাস না চেনে কোনো জাত ধর্ম । নিমিষেই কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষ। সবাই যে যার ধর্ম অনুযায়ী আল্লাহকে ডাকছেন । একমাত্র তিনিই পারবেন আমাদেরকে রক্ষা করতে । ইনশাআল্লাহ আমরা আবার হাসবো,খেলবো,ঘুরবো আবার আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে পারবো,আবার আমরা এক কাপ এ চা খেতে পারবো। আবার আমরা স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি,মাদ্রাসায় যাবো। আবার আমরা কাধে কাধ মিলিয়ে নামাজ পড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ । হে আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন ।আমিন।
চুলন সবাই এক সাথে বাসায় থাকি, অসহায়দের পাশে দাড়াই নিজের দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করি।

Leave a comment

Send a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *